তুরাগে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, নারী-শিশুসহ দগ্ধ-১০
মনির হোসেন জীবন : রাজধানীর তুরাগের কামারপাড়া এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে গ্যাস পাইপ লাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের মোট ১০ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের সবাইকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে ডিএমপির তুরাগ থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং বিশেষজ্ঞ তদন্ত দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে।
এদিকে, বিস্ফোরণের ঘটনায় ওই ভবনসহ আশেপাশের অন্তত ৮টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বসবাসের অনুপযোগী (অকার্যকর) হয়ে পড়েছে।
আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোররাতে সেহেরির আগে তুরাগ থানার ১০ নম্বর সেক্টর কবরস্থান রোডে
কামারপাড়া এলাকার রাজ্জাক মেম্বারের বাড়ির পাশে আবুল কালামের ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
আজ শুক্রবার "দি লাইফ সেভিং ফোর্স বাহিনী" উত্তরা স্টেশন এবং তুরাগ থানা পুলিশ এ প্রতিবেদককে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বিস্ফোরণে দগ্ধরা হলেন- মোটরসাইকেল রাইডার রুবেল (৩০), তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (২৫), মেয়ে রোজা (৩), সনিয়ার বড় বোন রিয়া (২৭), রুবেলের চাচাতো ভাই দুবাই প্রবাসী এনায়েত (৩২), তার স্ত্রী দেলেরা (২৮), ছেলে জুনায়েদ (১০), এনায়েতের ছোট ভাই হাবিব (৩০), ভাগনি আয়েশা (১৯) এবং আরেক স্বজন রুবেল (৩৫)।
প্রত্যক্ষদর্শী, এলাকাবাসি, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এ প্রতিবেদককে জানান, আজ ভোররাতে যখন বাসিন্দারা সেহরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ঠিক তখনই বিকট শব্দে পুরো তুরাগের কামারপাড়া এলাকা কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, রাজ্জাক মেম্বারের বাড়ির পাশের ওই ভবনটির দেয়াল উড়ে গেছে এবং আশেপাশের সাত-আটটি ভবনের পিলারে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পুরো এলাকাটি কর্ডন করে রাখা হয়েছে। এরপর দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তুরাগ থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং বিশেষজ্ঞ তদন্ত দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে। বিস্ফোরণের সঠিক কারণ ও বিস্ফোরক দ্রব্যের উৎস নিশ্চিত করতে ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সদস্যরা জানায়, ঘরে কোনো এসি না থাকায় সাধারণ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এত বড় ক্ষয়ক্ষতি হওয়া অস্বাভাবিক। ওই রুমে কোনো ধরনের বোমা তৈরির সরঞ্জাম বা শক্তিশালী বিস্ফোরক পদার্থ অবৈধভাবে মজুদ ছিল কি না, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে কোনোভাবে গ্যাসের পাইপ থেকে লিকেজ হয়ে ঘরে গ্যাস জমে ছিল এবং ভোরে আগুন জ্বালাতে গেলেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। দগ্ধদের স্বজন সাজেদ মাতব্বর জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো ভবন কেঁপে ওঠে। ঘর থেকে বেরিয়ে তিনি দেখেন দ্বিতীয় তলার বাসার আসবাবপত্র লন্ডভন্ড এবং দেয়াল ধসে পড়েছে। বাসার ভেতরে থাকা ১০ জনই আগুনে ঝলসে গেছেন।
এনায়েতের ভাগিনা সাজেদ মাতব্বর সাংবাদিকদের জানান, দ্বিতীয় তলার বাসাটিতে থাকেন রুবেল-সোনিয়া দম্পতি। রুবেল মোটরসাইকেল রাইড শেয়ার করেন। রুবেলের চাচাতো ভাই এনায়েত দুবাই প্রবাসী। কিছুদিন আগে দেশে ফিরেছেন। তাদের বাড়ি মাদারীপুর শীবচর উপজেলায়। সাজেদ আরও জানান, এনায়েত পরিবার নিয়ে গ্রাম থেকে চাচাতো ভাই রুবেলের ওই বাসায় এসেছিলেন বেড়াতে। একই বাড়ির ৪ তলায় থাকেন সাজেদ মাতব্বর। ভোরে দ্বিতীয় তলার বাসায় বিস্ফোরণ ঘটে। বিকট শব্দ শুনে সবাই বেরিয়ে দেখেন, ভবনের নিচ তলা ও দ্বিতীয় তলার দেয়াল ভেঙে গেছে৷ বাসাটিতে থাকা ১০ জনই আগুনে পুড়ে গেছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।
এদিকে, জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান সাংবাদিকদের জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রোজা শরীরে দগ্ধ ১৮ শতাংশ, সোনিয়া আক্তার দগ্ধ ১০০ শতাংশ, রুবেল দগ্ধ ৩২ শতাংশ, জুনায়েদ ২৪ শতাংশ, এনায়েত আলী দগ্ধ ৪৫ শতাংশ, দেলেরা খাতুন দগ্ধ ১৪ শতাংশ, রুবেল দগ্ধ ৭ শতাংশ, হাবিব দগ্ধ ১৯ শতাংশ,আয়েশা আক্তার দগ্ধ ১২ শতাংশ এবং রিয়া আক্তার শরীরে ৩২ শতাংশ দগ্ধ রয়েছে। যাদের শরীরের দগ্ধের পরিমাণ বেশি রয়েছে তাদেরকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেফার করা হয়েছে। অন্যান্যদের আবজার্ভেশনে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনের তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেফার করা হবে।