জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা: সীমিত তেল বিক্রি, সিন্ডিকেটের আশঙ্কায় সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি
স্টাফ রিপোর্টার:
দেশে ২৫ দিনের জ্বালানি মজুতের দাবি; পাম্পে সীমিত বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন—ঈদ সামনে রেখে বিকল্প আমদানির আহ্বান সচেতন মহলের
শনিবার ৭ মার্চ ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার উসমান গনি মাহিম
দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি বিক্রি এবং কোথাও কোথাও সরবরাহে অনীহার অভিযোগ ওঠায় সাধারণ ভোক্তা ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং এ মজুত দিয়ে অন্তত ২৫ দিন পর্যন্ত দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে বাস্তবে অনেক পাম্পে সীমিত পরিসরে তেল বিক্রি করা হচ্ছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিক ও বিশ্লেষকরা।
সরকারি নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে কিছু পাম্প মালিক জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং অন্যান্য যানবাহনে প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। তবে এ ধরনের সীমাবদ্ধতা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে কি না—তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, যদি দেশে পর্যাপ্ত মজুত থেকে থাকে, তাহলে সরবরাহ ব্যবস্থায় এমন সীমাবদ্ধতার পেছনে কোনো সিন্ডিকেট বা অসাধু চক্র সক্রিয় আছে কি না তা দ্রুত তদন্ত করা জরুরি। তারা বলছেন, বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে এর প্রভাব সরাসরি পরিবহন, নিত্যপণ্যের সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পড়তে পারে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং কিছু দেশ থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় এসেছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বহুমুখী সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সামনে পবিত্র রমজান মাসের শেষ সময় এবং অল্প কিছুদিন পরই মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। এ সময়ে সারা দেশে মানুষের চলাচল, পরিবহন কার্যক্রম এবং জ্বালানির চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। তাই ঈদকে সামনে রেখে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এখন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা রোধে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো, সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে দ্রুত বিকল্প আমদানির ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে জনগণের মাঝে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিয়ে গুজব ও অস্থিরতা প্রতিরোধ করাও সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।