সিলেটে সকল পেট্রোলপাম্প বন্ধ ঘোষণা
সংবাদদাতা সিলেট জেলা :মিনহাজুল কবীর ভূইয়া
আজ সন্ধ্যায় সিলেট শহরের চৌকিদেখী এলাকায় অবস্থিত **উত্তরা পেট্রোলিয়াম**-এ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানী সংগ্রহ করার অনুরোধ করায় কিছু উশৃঙ্খল বখাটে তরুণ পেট্রোল পাম্পে কর্মরত সেলসম্যান **মিঠু গোয়ালা (২২)**-এর উপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
দুঃখজনকভাবে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আজ শ্রীমঙ্গলের একটি রিফুয়েলিং স্টেশনে এবং গতকাল রাতে সিলেট শহরের আরেকটি রিফুয়েলিং স্টেশনে একইভাবে কর্মচারীদের উপর হামলা, হেনস্থা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পেট্রোল পাম্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা চরম অনিরাপত্তার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন।
**বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট বিভাগীয় শাখা** মনে করে, বিগত কয়েক দিন ধরে জ্বালানী সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সমিতির মালিক ও শ্রমিক পক্ষ দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। একদিকে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সাথে আলোচনা, সমন্বয় ও দেনদরবারের মাধ্যমে সিলেটে জ্বালানী সরবরাহ বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে; অন্যদিকে গ্রাহকদের সীমাহীন চাপের মধ্যেও সেবা অব্যাহত রাখা হচ্ছে। এই অবস্থায় কর্মচারীদের উপর এ ধরনের হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য, ন্যাক্কারজনক এবং কঠোরভাবে দমনযোগ্য অপরাধ।
এই প্রেক্ষাপটে, শ্রমিক-কর্মচারীদের নিরাপত্তা, সম্মান ও ন্যায্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিতে **বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট বিভাগীয় শাখা** অদ্য **৯ মার্চ হতে আগামী ১০ মার্চ দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রতীকী ধর্মঘট তথা কর্মবিরতি** পালনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছে।
একইসঙ্গে, সমিতি আরও ঘোষণা করছে যে, **বিপিসি কর্তৃক আরোপিত উদ্ভট, অযৌক্তিক ও বাস্তবতাবিবর্জিত দৈনিক কোটা পদ্ধতি** পরিবর্তন করে পূর্বের ন্যায় **যৌক্তিক ও স্বাভাবিক বিপণন ব্যবস্থা পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত** সমিতির সদস্যবৃন্দ **তৈল উত্তোলন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিরত থাকবেন**।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও ভুল নীতি, অকার্যকর কোটা এবং বাস্তবতাবর্জিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে সিলেটে জ্বালানী সরবরাহ ব্যবস্থা অস্বাভাবিক চাপের মুখে পড়েছে। এই অবস্থার দায় পেট্রোল পাম্প মালিক বা কর্মচারীদের নয়। বরং যারা মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনা না করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে, দায় তাদেরই।
তবুও আমরা দায়িত্বশীলভাবে জানাতে চাই, এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করে সিলেট অঞ্চলে জ্বালানী সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।
**সমিতির দাবিসমূহ:**
১. পেট্রোল পাম্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবিলম্বে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২. হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
৩. বিপিসি আরোপিত অযৌক্তিক দৈনিক কোটা পদ্ধতি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
৪. স্বাভাবিক, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর জ্বালানী বিপণন ব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে হবে।
৫. সিলেট অঞ্চলে জ্বালানী সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন
সিলেট বিভাগীয় শাখা