স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশে বর্তমান মাদক ও ক্যাসিনো জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে জানা যায়। দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী ও মেধাবী শিক্ষার্থী মাদকের ছোবলে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বিদেশি ক্যাসিনো জুয়া চক্রের মাধ্যমে দেশের বিপুল অর্থ প্রতিনিয়ত বিদেশে পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনীতি ও জনগণকে রক্ষা করতে প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রাম থেকে শহরের অলিগলিতে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। যেখানে মাদক বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা তাদের কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তুলে ধরছেন।
তবে কিছু এলাকায় এখনও প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শতভাগ নিয়ন্ত্রণ এখনো সম্ভব হয়নি। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতা পেলে মাদক ব্যবসায়ীদের দমন করা আরও সহজ হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সুশীল সমাজের মতে, ক্যাসিনো জুয়া দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে পড়া লোভনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষকে দ্রুত ধনী হওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এতে অনেকেই প্রতারিত হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। অনেক পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, ঋণের বোঝা নিয়ে মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।
তাদের মতে, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ এই জুয়ার ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে, যা দেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গায় এর নেতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল। তারা মনে করেন, সবাই একযোগে কাজ করলে মাদক ও জুয়ার ভয়াবহতা থেকে দেশকে রক্ষা করা সম্ভব।