• মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন |
  • English Version
Headline
জ্যাক সজল: পাঁজর ভাঙা আলোতে দাঁড়িয়ে থাকা এক চরিত্রভুক শিল্পী ২৪০০পিস ইয়াবাসহ ১ কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী আটক তুরাগে।  তুরাগে এক কেজি গাঁজাসহ কতিপয় মাদক কারবারি আটক ১, পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ চাঁপাইনবাবগঞ্জে নকল কীটনাশক তৈরি ,জরিমানাসহ ১ বছরের কারাদণ্ড সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের অভিযানে ৭ কেজি গাঁজা সহ আটক-১ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জহুরুল হক খাঁন রিটু’র উৎসবমুখী প্রচারণা চালাচ্ছেন। তুরাগের নলভোগে মাদকের টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবক নিহত: থানায় হত্যা মামলা দায়ের ঢাকা-১৮ আসনের দলিপাড়া- আহালিয়া সংযোগ সড়ক- দখলমুক্ত রাস্তা চাই! কুড়িগ্রাম জেলার, রাজিবপুর উপজেলায় কোদালকাটিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ

জ্যাক সজল: পাঁজর ভাঙা আলোতে দাঁড়িয়ে থাকা এক চরিত্রভুক শিল্পী

বিনোদন প্রতিনিধি ; জিয়াউর রহমান জিয়া / ৪৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন

1 0
Read Time:9 Minute, 38 Second

 

✍️ পায়েল বিশ্বাস

জ্যাক সজল ধীর সুরে কাঁদে। 

কিছু নাম উচ্চারণে শব্দ হয়, কিছু নাম উচ্চারণে নীরবতা।
জ্যাক সজল—এই নামটি দ্বিতীয় দলে পড়ে। কারণ এই নাম উচ্চারিত হলে শব্দ থেমে যায়, শুরু হয় অনুভবের বহমানতা। এ নাম আলো চায় না, আলো যেখানে ম্লান—সেখানেই সে নিজেকে স্থাপন করে।
তিনি সেই অভিনেতা, যিনি ক্যামেরার দিকে তাকান না, তাকিয়ে থাকেন চরিত্রের ভেতরের ফাটলে—সেখানে কিছু শব্দ জমে আছে, যা চিত্রনাট্যে নেই, যা সংলাপে নেই। যা কেবল হৃদয়ের অস্পষ্ট উচ্চারণ।
তিনি সেলিব্রিটি নন—তিনি শিল্পী।
তিনি তারকা নন—তিনি অন্তর্দাহিত এক পুড়ে যাওয়া চরিত্র।
নাটকের নাম হতে পারে পাঁজর ৩, যেখানে এক ভেতর-ছিন্ন যুবকের ভিতরে চুপচাপ আগুন জ্বলছিল—সে আগুনের ধোঁয়া বেরিয়েছে জ্যাক সজলের চোখ দিয়ে। অথবা কাক—যেখানে সমাজের কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে যাওয়া শ্রেণির প্রতিধ্বনি হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিংবা গার্মেন্টস যুদ্ধা, যেখানে তার নিঃশব্দ অভিব্যক্তিই হয়ে উঠেছিল একশো শ্রমজীবী নারীর প্রতিবাদের প্রতীক।
তিনি চরিত্র ‘অভিনয়’ করেন না—তিনি তাদের মতো নিঃশ্বাস ফেলেন।
এই অভিনয় কেবল সংলাপের নয়—চোখের পলক পড়া, ঠোঁটের কাঁপুনির মধ্যেও একটা গতি থাকে, যা কেবল তার মতো অভিনেতার পক্ষেই সম্ভব।
🧱 নাটকের ভিতর চরিত্র নয়—চরিত্রের ভিতর নাটক
যে পাঁজর ৩ নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন, সেখানে দর্শক তার সংলাপ মনে রাখে না, মনে রাখে তার হাঁটাচলার ছন্দ। কারণ চরিত্রটি ছিল একজন ভেতরে-বাইরে গুঁড়িয়ে যাওয়া মানুষ, যে সমাজে আছে, আবার নেই।
সজল সেই চরিত্রকে অভিনয় করেননি, তাকে পায়ের নিচে পিষে ভেঙে আবার নিজে গড়ে তুলেছেন।
ডাকাতিয়া, জানোয়ার রিটার্নস, প্রবাসীর সুখ, বেলা শেষে তুমি—প্রতিটি নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন এমন মানুষদের, যাদের আমরা রাস্তায় দেখি, অনুভব করি, কিন্তু চোখে রাখি না। সজল সেই চেনা অথচ উপেক্ষিত মানুষদের মুখ দিয়ে আমাদের বিবেককে আয়না দেখান।
তিনি শিল্পের এমন এক কায়দা তৈরি করেছেন, যেখানে স্টারডম নেই, কিন্তু উপস্থিতি রয়েছে।
তার অভিনয় দৃশ্যভিত্তিক নয়—প্রতিটি দৃশ্যে তিনি তৈরি করেন এক ধূসর মেঘলা বায়ুমণ্ডল, যেটা কেবল ‘অনুভব’ করা যায়।
💢 সংঘাতই তার নির্মাণভূমি
তিনি নিজেই বলেছেন—“আমি চরিত্র খুঁজি, যে আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাসেরও বিরোধী হতে পারে।”
এই কথাটির মধ্যে রয়েছে এক ভয়ঙ্কর সততা।
কারণ একজন শিল্পী যখন নিজের নৈতিকতা ছাড়িয়ে গিয়ে চরিত্রের নৈতিকতা মেনে নেয়—সেই জায়গা থেকেই শিল্প জন্ম নেয়।
তিনি অভিনয় করেছেন এমন কিছু চরিত্রে—যারা হয়তো জীবনে এমন কাজ করেছে, যা তিনি নিজে ঘৃণা করেন। তবু, তাদের সত্য, তাদের যন্ত্রণাকে সত্য করে তোলাই ছিল তার কাজ।
এটাই সজলকে আলাদা করে।
তিনি সংলাপকে অক্ষরে অক্ষরে মুখস্থ করেন না—তিনি তাকে গলিয়ে নেন নিজের ভেতরে। যদি চরিত্রের হৃদস্পন্দন বলে, “এই শব্দটি তোমার নয়”—তাহলে সজল সেই শব্দটিকেই উপেক্ষা করেন, পরিবর্তন করেন, আর তৈরি করেন নিজের অভ্যন্তর থেকে উৎসারিত এক নবতর অনুভব।
💉 রক্ত শুধু নাটকে নয়—বাস্তব জীবনেও দিয়েছেন, যেখানে সবচেয়ে দরকার ছিল
২০২৫ সালের উত্তরা মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি—যেখানে হঠাৎ ছিটকে যাওয়া আগুন, ধোঁয়া, মানুষের চিৎকার আর মৃত্যুর গন্ধে ঢেকে গিয়েছিল রাজধানীর আকাশ।
সেই সময়, যখন দেশের সব মিডিয়া শোকের সংবাদে মুখর ছিল, ফেসবুক জুড়ে ‘প্রার্থনা’ আর ‘শোক জানাই’ পোস্টে সয়লাব—তখন জ্যাক সজল করছিলেন এক নীরব, কঠিন সিদ্ধান্ত।
সেদিন একটাই ডাক এসেছিল—“নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত প্রয়োজন।”
হ্যাঁ, সেই দিনটায় নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ–এর তীব্র সংকট দেখা দেয়। সাধারণত এমন রক্তদাতার সংখ্যা কম, অপেক্ষাকৃত বিরল।
সজল ছিলেন সেই বিরল রক্তধারীদের একজন—রক্ত শুধু গ্রুপে নয়, মনেও। তিনি নিজের শারীরিক দুর্বলতা, কর্মব্যস্ততা, মিডিয়া উপস্থিতি—সব পেছনে রেখে,
একটি মানুষের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এসেছিলেন।
কেউ ক্যামেরা আনেনি, কেউ নিউজ করেনি, কেউ স্ট্যাটাস দেয়নি—
কিন্তু একটি নীরব সত্য ইতিহাসে লেখা হয়েছিল সেদিন:
একজন অভিনেতা তার অভিনীত চরিত্রগুলোর মতোই বাস্তব জীবনেও পাশে ছিলেন, মৃত্যুর মুখোমুখি একজন মানুষের।
🔥 ভাঙনের মধ্যে দিয়েই গড়ে ওঠা এক অভ্যন্তরীণ নায়ক
একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন—
“আমি প্রথম শুটিংয়ের দিন ভুলে গিয়েছিলাম সংলাপ, কাঁপছিল হাত। কিন্তু কেউ বলেছিল, ‘তুমি পারবে।’ সেই কথাটা আজও পথ দেখায়।”
এই এক লাইনেই বোঝা যায়, তার ‘আমি’টা কোথা থেকে শুরু হয়েছিল—আর কিভাবে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে এক নির্মীয়মান শিল্পসত্তা।
তিনি কোনো মিডিয়া ঘরানার পণ্য নন—তিনি লড়াকু এক মানবিক শিল্পী।
তিনি হাসতে হাসতে কেঁদেছেন, ক্যামেরার সামনে নিখুঁত সংলাপ দিয়েছেন, অথচ ক্যামেরার পেছনে ভেঙে পড়েছেন।
তিনি আমাদের শিখিয়েছেন—অভিনয় কীভাবে হয়ে ওঠে আত্মার ব্যবচ্ছেদ।
🎬 ভবিষ্যতের দিকে প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি
তিনি চান এমন একটি চরিত্র—যেটি আদর্শের জন্য লড়াই করে, কিন্তু নিজেই দ্বিধার ফাঁদে বন্দি।
তিনি চান পরিচালনায় আসতে, চান চিত্রনাট্য লেখায় নিজের অভিজ্ঞতা ঢেলে দিতে।
তবে অভিনয় ছাড়বেন না—কারণ চরিত্রের ভেতর হাঁটতে শেখা শিল্পী ‘চরিত্র’ ছাড়া বাঁচেন না।
সজল এক নতুন ধারার প্রতিনিধি হতে পারেন—যেখানে অভিনেতা ‘ব্র্যান্ড’ নয়, বরং ‘বোধ’।
🎧 দর্শকের সঙ্গে সম্পর্ক—আত্মার মতো জটিল, ভালোবাসার মতো নরম
তিনি দর্শকদের ভালোবাসেন—তাঁদের প্রতিক্রিয়া পড়েন।
কেউ প্রশংসা করলেই মাথা নত করেন, কেউ সমালোচনা করলেও মন থেকে গ্রহণ করেন।
তার অভিনয়, তার দৃষ্টি, তার ভঙ্গিমা—দর্শকের হৃদয়ে অনুরণিত হয় ঠিক তেমনভাবে, যেমন করে শীতের সকালে একটি নিঃশ্বাস কুয়াশার ভেতর উড়ে যায়।
📜 শেষাংশে নয়, এক দীর্ঘ শ্বাসে
জ্যাক সজল নামক শিল্পী এখনও নিজেকে খুঁজছেন।
প্রতিটি নাটকে, প্রতিটি সংলাপে, প্রতিটি ভাঙা মুহূর্তে তিনি নিজের একটি অংশ খুঁড়ে আনেন।
আমরা যখন তাকে দেখি পর্দায়—তখন আমরা একজন মানুষ দেখি না, বরং দেখি একটি রক্তাক্ত পথ, যার শেষে অপেক্ষা করছে—একটি সত্য, একটি আর্তনাদ, একটি চরিত্র।
এই চরিত্রভুক শিল্পী আমাদের শেখান—
“অভিনয় শুধু প্রকাশ নয়,
অভিনয় হচ্ছে নিজের আত্মাকে নিভিয়ে চরিত্রের আলো জ্বালানো।”
তার নিজের পোডাকশন হাইজ “ক্ষ্যাপা বাংলা ” নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন অভিনেতা জ্যাক সজল

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %


আপনার মতামত লিখুন :

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ