
অনুসন্ধানে : উছমান গনী মাহিম
দেশ ও জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে মরণনেশা ইয়াবা, হিরোইন, গাঁজা ও ক্যাসিনো জুয়া। রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এবং তুরাগ থানা অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে মাদক বিক্রির আস্তানা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হলেও কার্যকরভাবে বন্ধের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি এলাকাবাসীর জোর দাবি—দ্রুত ও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হোক। জরিপ ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৬ সালে দেশের তরুণ-তরুণী ও যুবসমাজের বড় একটি অংশ মাদক ও ক্যাসিনো জুয়ার ভয়াবহ ছোবলে আক্রান্ত। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৩-৪ কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে এই ভয়াল আসক্তির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।
প্রশাসনের অভিযান ও বাস্তবতা
প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালিয়ে কিছু মাদকাসক্ত ও ছোটখাটো ব্যবসায়ীকে আটক করলেও অভিযোগ রয়েছে—বড় মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। গ্রেপ্তারের পর অনেকেই জামিনে বের হয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, মাদকের গডফাদার ও তাদের আশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের ভেতরে কেউ মাসোহারা নিচ্ছে—এমন অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
পরিবার ও সমাজে ভয়াবহ প্রভাব
মাদক ও জুয়ার কারণে হাজার হাজার পরিবার অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। আসক্তরা যখন টাকার জোগান দিতে পারে না, তখন তারা চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বড়ো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে শিক্ষা, নৈতিকতা, সামাজিক মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা।
সন্তানকে বাঁচাতে, দেশকে বাঁচাতে—“মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ” এখন সময়ের দাবি।
সচেতন নাগরিকদের মতে, ২০২৬ সালকে মাদকবিরোধী আন্দোলনের বছর হিসেবে ঘোষণা করে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নইলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।
উত্তরা পশ্চিম ৯ নং সেক্টর পুকুর পাড় ও তুরাগ আহালিয়া পাকুরিয়া ভাউনিয়া ৫২ নং ওয়ার্ড এলাকায়,তাঁরাটেক নলভোগ নয়ানগরসহ তুরাগ থানা অন্তর্ভুক্ত এলাকাজুড়ে মাদক ও ক্যাসিনো জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হোক— উত্তরা ও তুরাগ এলাকাবাসীর একটাই দাবি নতুন সরকার নতুন একটা মাদক মুক্ত সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করবেন।